শ্রদ্বেয় শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তের নির্দেশে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

পরম কল্যাণ মিত্র আর্যপুরুষ, পরম পূজ্য শ্রাবক বুদ্ধ বনভান্তের জৈষ্ঠ্যতম শিষ্য, আন্তর্জাতিক খ‍্যাতিসম্পন্ন সফল স্বধর্মপ্রচারক, ভারত-বাংলায় বহু বনবিহারের প্রতিষ্ঠাতা, বৌদ্ধরত্ন-জ্ঞানভাণ্ডার উপাধিলাভী দীঘিনালা বনবিহারের অধ‍্যক্ষ শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তের নির্দেশে খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি, গুইমারা, মাটিরাঙ্গা ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় করোনা ভাইরাস এর সংকট মোকাবেলায় দূর্গম-প্রত‍্যন্ত গ্রামের অসহায়-দুস্থ-কর্মহীনদের মাঝে মানবিক উপহার স্বরূপ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এতে অর্থায়ন ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন দীঘিনালা বনবিহারের উপাসক-উপাসিকা পরিষদ, ত্রিরত্ন ফাউন্ডেশন (ধুতাঙ্গটিলা বনবিহার), বৌদ্ধ যুব ঐক্য পরিষদ (সাধনাটিলা বনবিহার), সম‍্যকদৃষ্টি ফাউন্ডেশন (অজলচূগ বনবিহার), আলুটিলা আন্তর্জাতিক বন ভাবনা কেন্দ্রের অধ‍্যক্ষ শ্রীমৎ করুণাদ্বীপ স্থবির ভান্তের জ্ঞাতিবর্গ, দীঘিনালা হাসপাতালের নার্স স্টাফ, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ধর্মপ্রাণ স্বচ্ছল ব‍্যক্তিবর্গ।

ত্রাণ নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ভারতের সীমান্তবর্তী নাড়াইছড়ি এলাকাটি অত‍্যন্ত দূর্গম এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সেখানে কোনো হাটবাজার নেই। চাল বা নিত‍্য প্রয়োজনীয় খাদ‍্যদ্রব‍্য কিনতে হলে একদিন আগে পায়ে হেঁটে এসে বাবুছড়া বাজার থেকে কিনে নিজের কাঁধে করে বয়ে নিতে হয়। এভাবে কষ্ট করে কোনোমতে সপ্তাহ খানেকের খাদ‍্যদ্রব‍্য বয়ে নেওয়া যায়। বতর্মান লকডাউনের কঠিন পরিস্থিতিতে তাও সম্ভবপর হচ্ছে না। যার ফলে অসহায়-গরীব মানুষগুলো বন-জঙ্গল থেকে শাকসবজি বা বন‍্য আলু সংগ্রহ করে সিদ্ধ করে খেয়ে না খেয়ে সীমাহীন নিদারুণ কষ্টে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। তাই তিনি নাড়াইছড়ি তথা ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।


বাবুছড়া কলেজের প্রভাষক ও ত্রিরত্ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৌরভ চাকমা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপূর্বক বলেন, শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে ও তাঁর গুণোত্তম শিষ‍্যমণ্ডলী আমাদেরকে উৎসাহ, পরামর্শ ও নির্দেশ প্রদান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাত্মতা স্বীকার করে করোনা ভাইরাসের কারণে অসহায়-কর্মহীন-অভাবগ্রস্থ-অভূক্ত হয়ে পড়া পরিবারের মাঝে মানবিক উপহার স্বরূপ খাদ‍্যসামগ্রী পৌছে দিতে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত‍্যক স্বচ্ছল ব‍্যক্তি যদি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পাশ্ববর্তী অসহায়-গরীবদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন শতভাগ পূরণ হবে, কেউ আর অভূক্ত থাকবে না। তাই তিনি আর্থ মানবতা সেবাই এগিয়ে আসার জন‍্য সকল শ্রেণীর, সকল পেশার স্বচ্ছল ব‍্যক্তিদের অনুরোধ করেন।


বৌদ্ধধর্মাবলম্বী হয়েও অন‍্য ধর্মাবলম্বীদের কেন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ত্রিরত্ন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক নির্ভীক চাকমা বলেন, পূজ‍্যষ্পদ শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে আমাদেরকে শিখিয়েছেন বৌদ্ধধর্ম বিশ্ব-মানবতার ধর্ম, কোন একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্ম নহে। মানুষ-প্রাণী নির্বিশেষে বুদ্ধের মানবতা সর্বব‍্যাপী। বুদ্ধের উপদেশ বিশেষ সম্প্রদায়ের জন‍্য উপদিষ্ট হয়নি। এ ধর্ম বিশ্ব-মানবের ধর্ম। বিশ্বমানবের প্রতি একাত্মতাবোধ বৌদ্ধধর্মের অন‍্যতম এক বৈশিষ্ট্য। তাই আমরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মানুলম্বী ত্রিপুরা জাতিতেও মানবিক উপহার স্বরূপ ত্রাণসামগ্রী ও মাস্ক বিতরন করছি।

এছাড়াও তিনি বলেন, পূজনীয় নন্দপাল ভান্তে আমাদেরকে শিখিয়েছেন বৌদ্ধধর্ম বিশ্ব-মৈত্রীর ধর্ম বা অহিংসার ধর্ম। সর্বজীবে মৈত্রী প্রদর্শন এ ধর্মের শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। এই মৈত্রী সেই ভালোবাসা ও সেই প্রেম যেখানে থাকবে না জাতিগত বা সম্প্রদায়গত ভেদাভেদ; থাকবে না বর্ণ-বৈষম‍্যের বেড়াজাল; থাকবে না ধনী-গরীব, পণ্ডিত-মূর্খ তথা নারী-পুরুষের পার্থক্য; থাকবে শুধু সকলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, থাকবে ঐকান্তিকতা, থাকবে মানুষ-প্রাণী নির্বিশেষে প্রত‍্যেকের হিতসুখ মঙ্গল কামনা- "সব্বে সত্ত্বা সুখীতা হোন্তু"।


No comments

Powered by Blogger.