করোনাকাল এবং জুম্ম জাতির করণীয়- ধীমান ওয়াংজা
🍁 বন্ধুগণ, এই করোনা মহাদুর্যোগের কালে আপনারা যে যার মতো দুর্গত জনগণকে যথাসাধ্য সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন, তা আমরা সবাই কমবেশি জানি এবং প্রত্যক্ষ করছি। আমার নিউজফিডেও বন্ধুদের সহায়তা প্রদানের সেসব তথ্য নিয়মিত নিয়মে সর্বদা ভেসে আসছে। সেগুলো দেখে আমিও সত্যিই অভিভূত, আবেগাপ্লুত। দেশে-বিদেশে গৃহীত তাঁদের সেসব মহতি কর্মোদ্যোগ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের জুম্ম জাতি কখনোই মৃত্যু, পরাভবকে মানবে না। এই জাতি অনন্তকাল বেঁচে থাকবে, যতোদিন আমাদের এই প্রাণপ্রিয় পৃথিবী, গ্রহনিকুঞ্জ তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড টিকে থাকে। করোনা দুর্যোগকালে অজেয়, অনির্বাণ যোদ্ধা হিসেবে আবির্ভূত আপনাদের সবাইকে আমি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অতুল সমর্থন, শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানাই।
🍁 তবে এটিও আবার ভাববেন যে, আমরা বা অন্যরা শুধু বসে বসেই খাচ্ছি! জাতির জন্য আমরা বুঝি কিছুই ভাবছি না বা করছি না! আমি নিজে অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু, গুণীজনকে, নেতা-নেত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে জানি - যাঁরা এই করোনা দুর্যোগে নিজেদের সব সামর্থ্য উজার করে দিয়ে বিপন্ন জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদেরকে ঐকান্তিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক, হাল-ফ্যাশনের ফেইসবুক প্রচারণায় এইসব গুণীজনকে আপনারা হয়তো দেখতে পাবেন না। তবে তাঁরা যে দেশের-বিদেশের বিপন্ন জুম্ম জনতাকে আন্তরিকভাবে, একাগ্র চিত্তে নিঃস্বার্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, তা অনস্বীকার্য। তাঁদের প্রতিও আমাদের আন্তরিক, ঐকান্তিক, অপরিমেয় শ্রদ্ধা, সমর্থন অব্যাহত থাকুক।
🍁 বন্ধুগণ, এই করোনাকালে একটি গুরুতর বিষয়ের প্রতি সরাসরি আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেটি হলো, ইতোমধ্যে করোনার বদৌলতে শহরের কূটিল-জটিল-পঙ্কিল জীবন ছেড়ে যাঁরা পাহাড়ে ঢুকে পড়েছেন, তাঁরা পাহাড়েই থাকুন। পাহাড়ের সকল মতের রাজনীতিবিদ, মস্তান, দার্শনিক, গুণীজন নির্বিশেষে সবাই প্লিজ তাঁদেরকে সর্ববিধ সহায়তা, নিরাপত্তা, আশ্রয় প্রদান করুন। কারো দ্বারা প্রভাবিত/প্ররোচিত না হয়ে নিজেদের রক্তের ভ্রাতা-ভগ্নী হিসেবে তাঁদেরকে পরম মমতায়, সযত্নে রক্ষা করুন, আগলে রাখুন। পুরনো সব বৈরিতা, হেনা ফেলাফেলি, মাধা হা-হি, চেদেবার ইচ্ছে থাকলেও তথাগত বুদ্ধের অপার করুণা-মহিমায় সেসব ভুলে যান, ভুলে থাকুন। টক্যা বলাদের মতো উগ্র হবেন না। তাঁদের অনুকরণে উগ্র রাজনৈতিক-সামাজিক-ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচার ও প্রয়োগ করবেন না। আমাদের তথাগত বুদ্ধের মৈত্রী-করুণা-মুদিতা-উপেক্ষা-প্রজ্ঞার শান্তিময় দর্শন ও আদর্শ সর্বদা অনুসরণ করুন। দেখবেন, আপনাদের আজকের এই সামান্য ত্যাগ স্বীকারের বদৌলতেই হয়তো একদিন জুমপাহাড়ের বুক চিড়ে ক্রান্তদর্শী কবি জীবনানন্দের সেই ‘শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়’ নামীয় মুক্তির ‘রাঙাবেল’ জুম্ম জাতির ললাটে, তার ইতিহাসে অক্ষয় কীর্তি হিসেবে গাঁথা হয়ে গেছে!
🍁 আরও একটি বিষয়ের প্রতি আপনাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। সেটি হলো, আজ থেকে ১২-১৫ বছর আগে যখন দলে দলে জুম পাহাড়ের কচিকাঁচা শ্রমশক্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জ-সাভার অভিমুখে বইছিলো তখন আমি এবং আমার আরও কিছু প্রাজ্ঞ বন্ধু কিন্তু বিচলিত না হয়ে পারি নি। জানতাম, আমাদের সেই সামান্য উষ্মা প্রকাশে-প্রতিবাদে-সমালোচনায় কোনো কাজ হবেনা। কারণ, যাঁরা এই শ্রমশক্তি সরবরাহ করছিলেন তাঁরাও আমাদের অত্যন্ত কাছের প্রভাবশালী পরিচিতজন ছিলেন, যাঁদের অনেকেই আজ দেশান্তরিত। তখন তাঁদের হাতে নানাবিধ যুক্তি মজুদ ছিলো। যেমন, একটি প্রধান যুক্তি ছিলো যে, এই শ্রমিকেরা আর কিছুই না হোক, অন্তত নতুন কিছু প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে পারবে, যা ভবিষ্যতে আমাদের জুমপাহাড়ে স্বর্ণপ্রদায়ী বিশল্যকরণী হিসেবে কাজ করবে। আমাদের আঞ্চলিক দলসমূহ, রাজাবাবু কেউই তখন এই শহরমুখী জনপ্লাবনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে আগাম সম্যক ধারণা বা সঠিক অনুমান করে উঠতে পারেননি বলে আমার বিশ্বাস। তাই আজ প্রায় দেড়-দুই দশক পর দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রাণপ্রিয় জুম্ম শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কেবলই ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। নিজেদের পরিবারের কিংবা জুমপাহাড়ের জন্য বৈষয়িক কোনো অবদান তথা ইতিবাচক তেমন কোনো ভূমিকাই তাঁরা রাখতে পারেন নি। কেবল নিজেদের জীবন কোনোক্রমে বাঁচিয়ে রেখে কোম্পানির জন্য সর্ববিধ ত্যাগ স্বীকারই যেন ছিলো তাঁদের নিয়তি। অবশ্য যারা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, বৈধ-অবৈধ উপায়ে নিজেদের ভাগ্য গড়ে নিয়েছেন তাঁদের কথা আলাদা। গুটিকয়েক উচ্চবেতনধারী জুম্মও নিশ্চয় রয়েছেন, যাঁরা নিঃসন্দেহে এই সেক্টরে অতীব সৌভাগ্যবান বলে বিবেচিত হবেন। তবে তাঁরা এখানে ব্যতিক্রমী, ভিন্ন উদাহরণ। কেননা আমরা সার্বিকভাবে সাধারণ, বাড়তি সুবিধাবঞ্চিত, সৎ, সরল, মানবিক জুম্ম শ্রমজীবীদের কথাই বলছি।
🍁 বলাবাহুল্য, সেই সময় আমি এবং আমার বন্ধুরা এই শহরমুখী জুম্ম শ্রমপ্লাবনকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারিনি। কারণ তখন এই শ্রমপ্লাবনে উদ্দীপক হিসেবে ভূমিকা রাখছিলো পাহাড়ের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত। শ্রম ব্যবসায়ীরা মূলত সেই অরাজক পরিস্থিতির সুযোগটাই নিচ্ছিলেন। তাই সেদিন (২০০৮ সালে) একজন বিদেশী পরমাত্মীয়কে অন্য অনেক বয়ান শেষে আমি লিখেছিলামঃ “There are a few more fields which may contribute to end the internal conflict if worked on in a planned manner. Several hundred indigenous youths are now working in the garments sector in Chittagong and Dhaka EPZs against a very scanty salary, who were compelled to work there mainly to stay away from internal conflicts (being encouraged by parents/guardians) and due to lack of security in their homes. They can be rehabilitated again to CHT with some income generating projects and positive motivation of not joining in any internal politics. If trained well they could provide another positive vision/example of economic self-reliance to other youths who are now busy to kill each other. I hope, these initiatives can bring slow but steady and lasting impacts on overall socio-politico-cultural mosaic in the region”. সংক্ষেপে এর বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় - “অন্য অনেক বিষয় আছে যেগুলো পাহাড়ের আভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন, হাজার হাজার পাহাড়ি শ্রমজীবী এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলোতে সামান্য কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজেদের শ্রম প্রদানে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁরা মূলত পাহাড়ের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত থেকে বাঁচতে, নিজেদের পিতা-মাতা-আত্মীয়দের পরামর্শে এবং নিজ বাড়িতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে এইসব শ্রমসাধ্য কাজে নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়েছেন। এখন এই শ্রমজীবীদেরকে কিছু আয়-উপার্জনমূলক প্রকল্পে যুক্ত করে এবং আভ্যন্তরীণ ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হওয়ার মোটিভেশন দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সুন্দরভাবে আবারও পুনর্বাসিত করা যায়। যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলে তাঁরা নিজেরাই অন্য পার্বত্যবাসী তরুণদের সামনে [যারা এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে খুনোখুনিতে ব্যস্ত] অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার, ইতিবাচক স্বপ্নকল্পের/রূপকল্পের নির্মাতা হিসেবে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন। আশা করি, আমাদের এইবিধ সন্মিলিত স্বপ্নগুলো ধীরে হলেও একদিন জুমপাহাড়ের সার্বিক সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি সুসমন্বিত ও দীর্ঘস্থায়ী অভিঘাত/প্রভাব ফেলবে।”
🍁 বন্ধুগণ, এখন আসি আমরা সবাই মিলে এই করোনাকালে পাহাড়ে কীসব ভুজোল বইয়ে দিতে পারি, তা নিয়ে। সেটি হলো আমরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং জুম্ম জাতির সকলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সৎভাবে যা যা করা দরকার তার সবই করবো। বিজ্ঞানীরা, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীতে, করোনা পরবর্তীকালে পৃথিবীর অনেক অঞ্চল সম্ভবত দুর্ভিক্ষ কবলিত হতে যাচ্ছে। জুমপাহাড়ের গৌরবদীপ্ত, ক্ষত্রিয় জাতি হিসেবে আমরা এই অবস্থাকে কখনোই মেনে নিতে পারবো না। তাই পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এখন আমাদের দরকার ব্যাপক চাষাবাদ, উৎপাদিত পণ্যের সুষম বণ্টন, যথাযথ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাজারের সঠিক, সুষম ব্যবস্থাপনা। এর পাশাপাশি আমরা জুম্ম সমাজকেও আরেকটু স্বনির্ভর, সচেতন, সংবেদনশীল, পরোপকারী এবং বাস্তববাদী জাতি হিসেবে অবশ্যই গড়ে তুলতে পারি। এই করোনাকালের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা জুম পাহাড়ের প্রতিটি অঞ্চলকে এক একটি স্বনির্ভর গ্রাম ও জনপদে অবশ্যই রূপান্তরিত করতে পারি। সেক্ষেত্রে কী কী কাজ বা করণীয় আমাদের হতে পারে, তা নিচে প্রশ্নাকারে ও সবিস্তারে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
“স্বনির্ভর গ্রাম-স্বনির্ভর সাপ্লাই চেইন”
“আর নয় চাকুরী, নিজের মাটি এবং গ্রামীণ উদ্যোগে বাঁচি”
[করোনা ও র্অথনৈতিক মন্দায় সবাইকে নিয়ে বাঁচুন]
🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁
🍁 আপনি আপনার গ্রামে নিজের উপার্জন শুরু করতে চাইলে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুনঃ ‘আমি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো?’
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আপনাকে সহযোগিতা করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আপনার প্রশ্নের উত্তর পেতে নিচের স্টেপগুলো ফলো করুনঃ
কাজের বিবরনঃ
🍁🍁🍁🍁🍁
🍁 সার্ভিস খাত
গৃহ নির্মান মিস্ত্রি [বাঁশ/কাঠ/গুদোম/পাকা ভবন]
মোবাইল মেকানিক
পাম্প মেশিন মিস্ত্রি
কৃষি সরঞ্জাম মিস্ত্রি
সেলাই
নৌকা নির্মান মিস্ত্রি
চুল কাটা
ধান/হলুদ/মরিচ ভাঙা
সোলার/ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি
দৈনিক ভিত্তিক শ্রম
কৃষি পরামর্শ
ফিসারিজ পরামর্শ
পশু চিকিৎসা পরামর্শ
চিকিৎসা পরামর্শ
কল সেন্টার
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা
এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা
শিক্ষা সেবা
পণ্য পরিবহন সেবা [ঠেলা/ভ্যান/টেক্সি/পিকআপ/বোট]
যাত্রী পরিবহন সেবা [মোটর সাইকেল/টেক্সি/পিকআপ/বোট]
চুলা মেরামত
তথ্য/আইন/সরকারী সাহায্য/বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সেবা
🍁 কুটিরশিল্প
বেইন বুনন
তাঁত, এমব্রয়ডারি, সেলাই
বাঁশের কাল্লোং, বারেং, তোলই, পাদি, লেই, পুল্যাং, গুলুক, দাবা, লুই, চেই, ডুব তৈরী
কাঠের/বাঁশের ফার্নিচার তৈরী
শুকনো খাবার তৈরী [মুলা/মাছ/সেমেইফুল/বাচ্চুরী/মরিচ/শিম/গামারী ফুল ইত্যাদি]
🍁 প্রাণি সম্পদ
মাছ/চিংড়ি/কাঁকড়া/কুচ্যা চাষ
মাছ ধরা
হাঁস-মুরগী পালন
ছাগল পালন
গরু/মহিষ পালন
শুগর পালন
মৌমাছি চাষ
🍁 ধান/শস্য উৎপাদন
ফ্রিঞ্জ ল্যান্ডে ধান/শস্য চাষ
সাধারণ টিলা, সমতলে ও আঙিনার চাষাবাদযোগ্য জমিতে ধান/শস্য চাষ
জুম ভূমিতে ধান/শস্য চাষ
🍁 শাক-সবজি উৎপাদন
কুদুগুলো/শুগুরীগুলো/হিরা/মারফা/লাল শাক/পালং শাক/ডাটা শাক/সজনে শাক/
কুমুর/বেগুন/ঢেরস/বরুনা শাক/কাট্টল ডিঙি/কচু/তারা/আগাজাফুল/মূলা/
বাধা কপি/ফুল কফি/শালগম/চেঙেই তারা/টমেটো/বাচ্ছুরী/ঢিমেতিদে/তিদেগুলো/
কুজি আমপাতা/বেদাগী/সেমেই আলু/দেশী আলু/গোল আলু/মিষ্টি আলু/শুগুরী আলু/শিম/ঝিগ্যা/হইধ্যা/হনাগুল/হলাত্তুর/কাত্তল/হোগোয়া/কলমি শাক/পুঝোক/আমিল্যা/তদেগজিল শাক/মেনগুনি/বাতবাত্যে শাক/দুমরশুমি/তেত্তল গুল/বান্দর মামারা/শশা/মাশরুম ইত্যাদি।
🍁 ফল উৎপাদন
পেঁপে/আম/লিচু/লেবু/কন্দাল/
আনারস/পেয়ারা/কমলা/মোসাম্বি/
কলা/আমলকি/সপেদা/কাঁঠাল/করঙা/পান্যেমালা/রকোসকো/ কোগুলো/কুসুমগুলো/স্ট্রবেরী/ড্রাগনফল/
ডালিম/রাম বুটান/তেতুল/তরমুজ/আতা/বেল/বরই/জাম/জামরুল/ করমচা/গাব/নারিকেল/সুপারী/আখ/বাদাম/কেজনাট/ভুট্টা/চিনিফল/আঙুর/খেজুর/আপেল, ইত্যাদি।
🍁 কাঠ জাতীয় গাছ
সেগুন/গামার/করই/মেহগনি/কম্বই/সরোজ/
গদা/ইউক্যালিপটাস/চাঁপালিস/গর্জন/আম/জাম/কাঁঠাল/
সিবিট/আঘর গাছ।
🍁 বাঁশ উৎপাদন
ভাচ্চে বাঁশ/মিডিঙে বাঁশ/পারবো বাশ/কালিজুরিবাঁশ/এগাচ্চে বাঁশ/ঢুলু বাঁশ/
🍁 মসলা জাতীয় গাছ
তেজপাতা/আদা/হলুদ/রসুন/পেঁয়াজ/মরিচ/ধনিয়া পাতা/ফুঝি/সাবারং/মাচ্চো বাগোর/বিলেদি বাগোর/এলাচ/লবঙ্গ/গোল মরিচ/জিরা/
🍁 ঔষধি ফল এবং অন্যান্য
মেহেন্দি/হরিতকি/বহেরা/আমলকি/হনাগুলো/মিউঅ/চন্দন/মনমত গাছ/আঙর পাদা/রাবার/আগড় ফুল/গোলাপ/গাদা/বাগান বিলাস/জবা/মাধবী লতা/বকফুল/কৃষ্ণচুড়া/গন্ধরাজ/বেলী/রজনীগন্ধা/হাসনাহেনা/নয়নতারা/শিউলী/টিউলিপ/হাস্নাহেনা ইত্যাদি।
🍁 পণ্য সরবরাহ ব্যবসা
দোকান ব্যবসা
নার্সারী
অনলাইন মার্কেটিং
চিঠি/বইপুস্তক সরবরাহ
🍁 বিকল্প সাপ্লাই চেইন এর প্রাথমিক ধারণাঃ
স্থানীয় দোকানদার এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করে গ্রামবাসীদের কাছে সরবরাহ করবেন।
নিজের গ্রামের এবং অন্য গ্রামের পণ্য সংগ্রহ করে দোকানদারদের/ব্যবসায়ীদের নিকট বা ভোক্তাদের নিকট পৌঁছাবেন।
🍁 বন্ধুগণ, উপরের তালিকাটা একটি প্রাথমিক ধারণামাত্র। তালিকার অনেক কাজ হয়তোবা ইতোমধ্যে অনেকেই সম্পন্ন করে ফেলেছেন। তবুও জুম পাহাড়ের সকল ইউনিয়ন পর্যন্ত তালিকাটি পৌঁছে দিয়ে কার কোথায় সহায়তা প্রয়োজন, তা জানা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। অনুগ্রহপূর্বক তালিকাটি পড়ে দেখুন এবং গ্রামের সকলেই নিজেদের সাধ্যমতো এই তালিকার প্রয়োজনীয় অংশটি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হোন। করোনাকাল পরবর্তী বাস্তবতা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তিদায়ক, সুখকর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তাই এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি-ভিত্তিক আমাদের পর্যবেক্ষণ ও সাধ্যমাফিক সহযোগিতা বহাল থাকবে। আমরা চাই চলমান সঙ্কট থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় জুমপাহাড়ে একটি স্বনির্ভর, শান্তিপ্রিয়, আলোকিত জুম্ম সমাজ গড়ে উঠুক। আর হ্যাঁ, আপনার আঙিনায়, আশপাশের কোনো আবাদযোগ্য জমি কখনই পতিত ফেলে রাখবেন না। প্রতি ইঞ্চি জমিই আবাদের কাজে লাগান এবং দেশকে খাদ্যে-শস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সহায়তা করুন।
আপনাদের সবার জন্য শুভকামনা। জগতের সবার মঙ্গল হোক।

No comments