পানছড়িতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর সম্মাননা স্মারক পেলেন মুন্নী চাকমা
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর সম্মাননা পেয়েছেন পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী সারিবালা স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নী চাকমা। গতকাল রবিবার সকাল ১০ টার সময় পানছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে মুন্নী চাকমার হাতে এই শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, পানছড়ির পূজগাঁঙ ইউনিয়নের চন্দ্র কারবারি পাড়ার বাবা প্রদীপ চন্দ্র চাকমা ও মা কল্পনা চাকমার তিন মেয়ের মধ্যে মেঝ সন্তান মুন্নী চাকমা। অভাব আর দারিদ্রকে সাথে নিয়েই ছুটে চলা তাদের জীবন। তার দরিদ্র শিক্ষক বাবা শিক্ষকতা করেছিলেন অনেক বছর। অনেক কষ্ট করেছিলেন তিন সন্তানকে মানুষ করার জন্য। তিনি গত ১ বছর ধরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবারে নেমে এলো যেন অন্ধকারময় এক জগৎ। দারিদ্র ও দুঃখ কষ্টকে সাথে নিয়ে ছুটে চলার পথে মুন্নীর সাফল্যের এক ছটাক আলোর আনন্দে ভাসিয়ে তুললো সবাইকে। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর সম্মাননা গর্বে ভরিয়ে তুললো তাদের বাবা মা সহ পরিবারের সবাইকে। মুন্নী ২০১৭ সালে পূঁজগাঙ মুখ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি ও ২০১৯ সালে চেঙ্গী সারিবালা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করে। বর্তমানে পানছড়ি সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে একজন আদর্শবান আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অসুস্থ বাবা প্রদীপ চন্দ্র চাকমা ও মা কল্পনা চাকমা বলেন, আমরা তার সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত। সে জীবনে অনেক বড় হোক এই প্রার্থনা করি। মুন্নী চাকমা বলেন, জীবনে আমি যে এতো বড় একটা সম্মাননা অর্জন করবো তা জানা ছিল না। আসলে প্রত্যেক পুরুষ্কার ও সম্মাননা মানুষকে সম্মানিত ও অনুপ্রানিত করে। আমি অনেক অনেক সম্মানিত বোধ করছি। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আমার সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের যাদের প্রচেষ্টা এবং আশীর্বাদে আমার এই অর্জন। আমার মা ও বাবা দুইজনই অনেক কষ্ট করেছিলেন আমার জন্য। আমি ভবিষ্যতে একজন আদর্শবান আইনজীবী হয়ে সবার মাঝে একটি অন্যান্য দৃষ্টান্ত রাখার স্বপ্ন দেখি। আমি আরো কৃতজ্ঞতা জানাই উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সকলের প্রতি। এই সম্মাননা আমার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক অনেক শক্তি ও সাহস যোগাবে।


No comments