'রাঙামাটি সরকারি হাসপাতাল' এখন নরকের হাসপাতাল- সুপ্রিয় চাকমা



সুপ্রিয় চাকমা:
আচ্ছা আপনারা বলুন তো দেশে সরকারি হাসপাতাল কেন তৈরী হয়..?
আমার তেমন জানা নেই। আমি জানতাম,সরকারি হাসপাতাল মানেই অভিজ্ঞ চিকিৎসক,অভিজ্ঞ নার্সের সেবাতে পরিপূর্ন প্রতিষ্ঠানই সরকারি হাসপাতাল।যে প্রতিষ্ঠানে বিনা টাকায়, চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়,ওষুধসামগ্রী ফ্রিতে পাওয়া প্রতিষ্ঠানই সরকারি হাসপাতাল। জুরুরী কোন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করা রোগী যাওযার সাথে সাথে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলা তার নামই হাসপাতাল।
কিন্তু আমার দেখা রাঙ্গামাটি সরকারি হাসপাতাল তো একটি নর্দমা। নরকের হাসপাতাল। আমি জানতাম, কোন বেসরকারি ডাক্তারখানায় যেকোন সময়ে রোগী গেলে ডাক্তার পাওযা মুশকিল। তাই আমরা সরকারি হাসপাতালে যায় ডাক্তার পাওয়ার আশায়। কিছু টাকা বাঁচানোর আশায়।কিছু ওষুধের টাকা বেঁচে যাবে ইত্যাদি ভেবে। কিন্ত রাঙ্গামাটি সরকারি হাসপাতাল তা ভিন্ন। কোন এক মমুর্ষ রোগী নিয়ে গেলে নার্স ও ডাক্তারের খবর থাকে না যে, হাসপাতালে ইমার্জেন্সী রোগী ঢুকেছে। ও বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, ইমার্জেন্সী রোগী গেলে কোন সময় যদিও বা ডাক্তার পেয়ে যান ভুলেও একটি কাজ কখনো করবেন না। সেটি হল, ডাক্তার যেখানে বসে আপনার রোগীকে টেস্ট করে সেখানকার আশে-পাশে চেয়ারে কখনো আপনি বসবেন না। রোগীর পাশে ডাক্তার,পাশে এক নার্স রেজিস্টার করান এবং খাল দুটি চেয়ার। সেখানে নাকি রোগীর আত্মীয়রা বসার জন্য নয়। সেখানে নাকি নার্সরা বসে মাত্র। রোগীর সাথে যদি তার আত্মীয় না থাকে তাহলে রোগীর বিস্তারিত সমস্যা ডাক্তারকে কে জানাবে...? রোগী তো তার অসুস্থতার কারনে তার সব অসুবিধা খুলে বলতে পারতেছে না।

#হাসপাতাল_থেকে_ওষুধ_পাওয়া:-
 এবার ওষুধের কথা বলি। সেটি তো এর আগের পোস্টে লিখে ছিলাম। তবুও অল্প করে বলি। আপনি রোগী ভর্তি করালেন। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলেন। দেখবেন হাসপাতাল থেকে মাত্র প্যারাসিটামল আর ডাই-ক্লোফেনাক নাকি কি ফেনাক সে দুটি ওষুধই দিতে পারবে। বাকী বাকী ওষুধগুলো কিনতে হবে আপনার বাইরের দোকান থেকে। ধরে নিন, রাত ১১ টা বাজে রোগী ভর্তি করালেন। ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলেন। হাসপাতাল থেকে তো মাত্র প্যারাসিটামল আর ডাই-ক্লোফেনাক নাকি কি সেটি দিলো। বাকী আছে ৪ টি ওষুধ। এখন বাইরের ওষুধের দোকানও বন্ধ। তাহলে রোগীর অবস্থা কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন ডাক্তার বাবু...?
 তাহলে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা তো করাতেই পারতেন তাই না...?

#হাসপাতালের_চারিপাশ:-
হাসপাতাল নাকি  একটি নির্দ্দিষ্ট ডাস্টবিনের স্থান তা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন না। নাকি মোটরবাইক রাখার একটি পার্কিং জায়গা তা সরাসরি দেখলে আপনি বুঝে যাবেন। আসলে রাঙ্গামাটি সরকারি হাসপাতাল একটি মোটরবাইক  পার্কিং করার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কোন ইমার্জেন্সী রোগী অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে নিয়ে গেলে বাইকের কারনে অ্যাম্বুলেন্স বাহির হতে পারবে না। হাসপাতালের গেইটের ডানে-বামে দেখবেন ডাবের,বিস্কুটের থলে, খালি পানির বোতল গুলো যত্রতত্র ফেলে দিয়েছে। মাছি-মশা গুলোর যে বিনোদন যেন মনে হয় মাঠে নাগিন ডেন্স চলছে আর খুশিতে মাছি-মশা গুলো নাগিন ডেন্স দিচ্ছে।
"নাগিন-নাগিন-নাগিন"
বাইরের কথা বললাম ভেতরের কথা  একটু বলি। ভেতরে তো ঢুকলেই মাথা খারাপ হয়ে যাবে। ভুলেও কখনোও টয়লেটের দিকে যাবেন না। যত্রতত্র মল, অপরিস্কার টয়টেল আর নেই কোন হাত পরিস্কার করার ব্যবস্থার সাবান। এছাড়াও সারা বছর ধরে হাসপাতালে কেবিনের অপূর্নতা যেন রোগীদের জীবনকে করে রেখেছে জেলখানার মতন। কেবিন না থাকাতে ফ্লোরে রোগীর বিছানা তৈরি করতে হয়। অন্যদিকে রোগীদের ঘেনঘেনানি অন্যদিকে নার্সদের বকবকানি যেন হাঙ্গর মাছে মাছিরা ফুর্তি করতেছে। ও হ্যাঁ সব নার্সরা এক নয়। কিন্তু বেশির ভাগই অবহেলায় পরিপূর্ণ

#ডাক্তারদের_রোগী_দেখা:-
প্রথমে দেখবেন " সংক্ষিপ্ত করে কথা বলুন" এ ধরনের একটি লেখা কাগজে লেখা আছে। যাক সংক্ষিপ্ত করে রোগের বর্ণনা দিলেন। ডাক্তার শুধু চোখ আর জিহ্বা দেখলেন এবং ওষুধ লিখে দিলেন। দুঃখ লাগে একটাই সেই কচুর লতিটাও আপনার বুকে দিলো না। তবে সব ডাক্তার এক না। অনেক ডাক্তার তো শুধু  কচুর লতি বুকে দিয়ে চিকিৎসা টা শেষ করে দেন।ও হ্যাঁ , ওষুধ কিন্তু হাসপাতাল থেকে পাওয়া কখনো আশা করবেন না।

আমাদের কত আশা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাড়িতে সুস্থভাবে নিয়ে আসতে পারবো।কিন্তু অনেক সময় ডাক্তারের চিকিৎসার অভাবে নার্সদের সেবার অভাবে আমাদের রোগীকে ফিরে আনতে হয় মৃত লাশে। সাপে কামড়ে মরতে হয় রাঙ্গামাটি সরকরি হাসপাতালে নিয়ে গেলে। ভর্তি করাতেই,ডাক্তার আসতে আসতেই, ইন্জেকশন দিতে দিতেই রোগীরা সহ্য করতে না পেরে চলে যায় নিজের ঠিকানায়। ব্যর্থতায় থেকে যায় জীবন। সরকারি হাসপাতাল নাকি মরনপাতাল তা কেউ বোঝে না...

No comments

Powered by Blogger.