ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে আগতদের এলাকায় এনে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখলে সমস্যা কোথায় প্রশাসনের?
চলমান করোনাভাইরাস আউটব্রেক এর মধ্যে খোদ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি পার্বত্য চ্ট্টগ্রামের অনেক জায়গায় এই মর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যে, ঢাকা, চ্ট্টগ্রাম থেকে আগত কাউকে এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা ।
বিষয়টা যারা আমরা ঢাকা, চ্ট্টগ্রামে থাকি তাদের প্রতি শুধু চরম অবমাননাকরই নয়, অধিকন্তু চরম অকৃতজ্ঞতা এবং বেঈমানির সামিল ।
কারন-
১. হিলট্রাক্ট থেকে প্রায়ই ঢাকা,চ্ট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য আসতে হয় । তখন রোগী এবং রোগীর স্বজনেরা আশ্রয় পায় নিকটাত্মীয়, নামমাত্র আত্মীয়, পরিচিতদের বাসায়, এবং খুবই যত্ন সহকারে আপ্যায়িত হয় । প্রসংগক্রমে একটি অপ্রিয় সত্য বলি, রাঙামাটি শহরে কিছু কিছু মানুষের (সবাই নয়) বাড়ীতে অথিতি সম্পর্কিত বদনাম প্রায়ই শোনা যায় । কিন্তু ঢাকা, চ্ট্টগ্রামের শিল্প এলাকায় অতিথি আপ্যায়নজনিত বদনাম আমি নিজে কখনো শুনিনি ।
২. চিকিৎসা ছাড়াও ঢাকা, চ্ট্টগ্রাম শহরে বেড়াতে এবং সাগর, চিড়িয়াখানা পার্ক ইত্যাদি দেখতে যারা আসে তারাও একই ধরনের আশ্রয়, আপ্যায়ন, এবং সহযোগিতা পেয়ে থাকে ।
৩. দুরারোগ্য, গরীব অসহায় রোগীদের জন্য বড় অংকের সহযোগিতা ঢাকা, চ্ট্টগ্রাম বাসীদের কাছ থেকে উত্তোলিত হয় ।
৪. ঢাকা, চ্ট্টগ্রামে বিবিধ হাসপাতাল ভর্তি ইমার্জেন্সী, জটিল রোগীদের জন্য নিজের কাজ ফেলে, নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে বাঁচাতে বরাবরই এগিয়ে আসে এই ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসী ছাত্র /ছাত্রী এবং দেশি বিদেশী কোম্পানিতে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকেরা ।
৫. পার্বত্য চ্ট্টগ্রামের বিবিধ বিহার, মন্দিরের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমান অর্থ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আসে ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসীদের উপার্জিত হালাল ইনকাম থেকে । সাজেকে ইদুর বন্যার মতো বিবিধ দূর্যোগে ত্রান সহায়তাও আসে ঢাকা, চ্ট্টগ্রাম থেকে ।
৬. আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, হিলের শিক্ষিত বেকার বহু যুবক যুবতীদের ও কর্মসংস্থান হয় এই ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসীদের প্রচেষ্টায় ।
অথচ এই বিপদের দিনে সেই সুসময় এবং অসময়ের বন্ধু ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসীদেরকে এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা কোন স্তরের বেঈমানী তা বলাই বাহুল্য ।
হ্যাঁ, আমরা জানি বর্তমান করোনাভাইরাস মহামারীর মতো দূর্দিনে ঢাকা, চ্ট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ে নিজ জন্মভূমিতে ফেরা মানুষেরা অনেকটা সন্দেহযুক্ত বিপদজনক । সেটা আমাদের বুঝানোর প্রয়োজন আমি মনে করিনা ।
উল্লেখিত ক্যাটাগরির সচেতনতা এবং বোধশক্তি আমাদের মধ্যে আছে । আমাদের কথা হলো, পাহাড়ে নিজ জন্মভূমিতে ফেরা ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসিদের জন্য প্রত্যেকটি গ্রামে সুন্দর, সম্মানজনক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করুন এবং প্রয়োজনীয় যথাযথ পদক্ষেপ নিন। আমরা সেটা খুশিমনে মেনে নিব ।
তা না করে এলাকায় প্রবেশে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মীরজাফরী করেন কিভাবে ????
আমরা ঢাকা, চ্ট্টগ্রামবাসীরাও মীরজাফরী করে যদি ভবিষ্যতে ঢাকা, চ্ট্টগ্রামে রোগী আনা, রোগীদের রক্ত দেয়া, রোগীর জন্য সাহায্য উত্তোলন, বেড়ানো ইত্যাদি বন্ধ করে দিই তখন কি করবেন ??????
নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন ।
করোনা মহামারীর এই দুর্যোগে পাহাড়ের নিজ গ্রামে যদি কোনো পাহাড়ি আশ্রয় না পেয়ে সমতল অঞ্চলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তাহলে এর দ্বায় কিন্তু পাহাড়ের সমাজ কিছুতেই এড়াতে পারবেনা...........
তাই প্লিজ এতটা অমানবিক হবেন না..............
মৃত্যুকে কে ভয় করেনা রাজা বাদশা প্রজা ধনী গরিব সকলেই মৃত্যুকে ভয় করে। কিন্তু করোনা ভয়ের দোহাই দিয়ে এ কি শুরু করেছেন আপনারা?
সমতলে ঢাকা চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন বড় বড় বিভাগীয় শহরে পাহাড়ের শত শত পাহাড়ি সম্প্রদায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে কিংবা পড়ালেখার প্রয়োজনে বাস করে। কেউ গার্মেন্টসে চাকরি করে জীবনযাপনে রত আবার কেউ কেউ সরকারি চাকুরী করে জীবনযাপন করতেছে। এক্ষেত্রে যেমন পাহাড়ের অর্থনৈতিক চাকা স্বচ্ছল হচ্ছে তেমনি স্বচ্ছলতা ফিরে আসতেছে অধিকাংশ পাহাড়ি পরিবারের। কারন প্রতিটি পাহাড়ি চাকুরীজীবির উপর নির্ভরশীল তাদের পরিবার এবং সমাজ।
কিন্তু সারা বিশ্বের করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতে জীবন বাঁচানোর জন্যে অনেক পাহাড়ি গ্রামে ফিরে যেতে চাইলেও তাদেরকে গ্রামে যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে করোনা ভয়ের অজুহাত দেখিয়ে। যা চরম অমানবিক। একজন সুস্থ সবল মানুষকে এই বিপদের সময় সমস্ত স্বাস্থ্য বিধির নিয়ম মেনে অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইন অথবা সেল্ফ কোয়ারান্টাইনে রেখে আশ্রয় দেয়া কি যৌক্তিক নয়??
তাহলে বিদেশ ফেরত লোকদেরকে পাহাড়ে আশ্রয় দিয়েছেন কেন? বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় পাহাড়ে অনেক বিদেশ ফেরত পাহাড়ি ও বাঙালি ইতিমধ্যে তাদের যার যার বাড়িতে চলে এসেছে। তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে আপনাদের কোন সমস্যা যখন হয়নি তাহলে সমতলে থাকা একজন সুস্থ সবল মানুষকে সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে আশ্রয় দিলে সমস্যাটা কোথায়?
বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, শহরে থাকা অনেক পাহাড়ি সম্প্রদায় জীবন বাঁচাতে কিংবা শহরের করোনা ঝুঁকি এড়াতে তাদের গ্রামে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য করেছে পাহাড়ের সমাজ। আবার অনেকে গ্রামে যেতে চাইলেও তাদেরকে গ্রামে যেতে নিষেধ করা হয়। অনেকে গ্রামে ফিরে গিয়েও সেই সমাজের নানাধরণের হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যা চরম অবমাননাকর।
পাহাড়ে কোনো পাহাড়ি যদি বড়ধরনের কোনো অসুখে পড়ে তখন তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয় শহরে বাস করা একজন পাহাড়ি কিংবা শহরে বাস করা তার কোনো আত্মীয় স্বজন। যখন পাহাড়ের কোনো পাহাড়ি তার বিপদের সময় শহরে বাস করা সেই লোকটির কাছে গিয়ে আশ্রয় পায় তখন তার বিপদের সময় পাহাড়ি সমাজ তাকে আশ্রয় দিবে না কেন??

No comments