করোনা ভাইরাসের জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এক সেনার নামাজ আদায় করার আদেশ
প্রতীকী ছবি : সেনাবাহিনী
রাঙামাটি জেলার নান্যাচর বনবিহারের ভিক্ষুরা প্রতিদিন পিণ্ডাচরনে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে টহলরত আর্মিদের সাথে প্রায়ই সাক্ষাৎ হয়। এ সময় আর্মি সদস্যরা ভিক্ষুদের লক্ষ্য করে ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন কটাক্ষ করে থাকেন। পথিমধ্যে সেনাবাহিনীরা বৌদ্ধভিক্ষুদের দেখলে আল্লার নাম নাও, মাথা ন্যাড়া কেন? কথা বলেনা কেন? শালারা বোবা নাকি এরূপ অনেক অশ্রাব্য ইতর ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। যা প্রতিদিন রুটিন হিসেবে ভান্তেদের হজম করতে হয়। তেমনি গত ১০ মার্চ ২০২০ রোজ মঙ্গলবার ভিক্ষুরা পিণ্ডাচরনে যাওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল দলও তাদের পাশদিয়ে যায়, এসময় একজন সেনাসদস্য বলেন- “এসব করে লাভ নেই, সবাইকে নামাজ আদায় না করলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি নেই।”
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ত্রিরত্ন ভিক্ষু নামের একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু আক্ষেপ করে তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠে। চিন্তাশীল ব্যক্তিদের অনেকেই মনে করছেন এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ইসলামীকরণের বাস্তব উদাহরণ। সেনাবহিনীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘শান্তি-সম্প্রীতি-উন্নয়ন’-এর আবরণে চরম সাম্প্রদায়িকতা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন বলেও অনেকে মনে করেন। কেউ কেউ অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী তোলেন। সেনাবাহিনী দেশের শান্তি শৃংখলা রক্ষাকারী এমন একটি সংস্থা যার সুনাম দেশ বিভূইয়ে বিদেশেও স্থান করে নিয়েছে। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যাদের নাম অগ্রগণ্য তাদের দ্বারাই যদি নিজ দেশের জনগণ ও অন্য ধর্মাবলম্বীরা সুরক্ষিত না থাকে তাহলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও কাজ কী এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সেনাবাহিনীদের এমন ঘৃণ্য কাজে সাংবিধানিকভাবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে শুধু বৌদ্ধরা কেন দেশের সংখ্যাগুরু মুসলিমরাও নিশ্চয় লজ্জিত এতে কোন সন্দেহ নেই। সেনাদের এমন জঘন্য কাজকে অনেক বাঙালি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জুম্মো নিউজ পাঠকদের সুবিধার্থে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-
ত্রিরত্ন ভিক্ষুর ফেসবুক স্ট্যাটাস:---
প্রত্যেক দিনের ন্যায় আমরা রোজ সকালে পিণ্ডাচরণে বের হতাম। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পিণ্ডাচরণে যাওয়ার পথে আমাদের অনেক সময় সেনাদের কাছ থেকে নানান ধরনের কথা শুনতে হয় যেমন.. আল্লার নাম নাও, মাথা ন্যারা কেন? কথা বলে না কেন? শালারা বোবা নাকি? আরো কত কিছু শুনতে হয়। নীরবে সহ্য করা ছাড়া কোন উপায় নেই ।আজও তার বিপরীত হয়নি। পিণ্ডাচরণে যাওয়ার সময় পাশ দিয়ে এক দল আর্মি সেনা যাচ্ছিল। যাওয়ার সময় একজন আর্মি সেনা বলে উঠল , এসব করে লাভ নেই সবাইকে নামাজ আদায় করতে হবে, নামাজ আদায় না করলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি নেই। কি আর বলবো নীরবে থাকা ছাড়া আর কি করা। তখন আমার মনের মধ্যে প্রশ্নের উদয় হলো যে, ইসলাম ধর্মে যদি এতই সত্য থেকে থাকে।নামাজ আদায় করে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে তাহলে সৌদিআরবে মক্কায় কেন করোনা ভাইরাসের ভয়ে জন শূণ্য? কেন হজে যাচ্ছে না? ইরাকে কেনই বা দল বেধে মসজিদে যাওয়া স্থগিত হলো? বাংলাদেশে কেনই বা করোনা ভাইরাসের ভয়ে মুজিব বর্ষ উৎযাপন বাদ দেওয়া হলো? আল্লা এতই যদি শক্তিমান হতো তাহলে মুসলিম দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস হানা দিতে পারতো না। বৌদ্ধরা তো বিহারে যাওয়া বন্ধ করে না। ইসলামিরা বলে উপজাতিরা সাপ খায়, ব্যাঙ খায় তাদেরও করোনা হবে তাদেরও করোনা আাছে আরো কত কি বলে। হ্যা আমি মানি উপজাতিরা সাপ,ব্যাঙ খায়। কিন্তু এই নয় যে তাদের করোনা আছে। বুদ্ধের মতে সবই কর্মফল , আমরা বৌদ্ধরা কর্মের উপর নির্বরশীল।
ভগবান গৌতম বুদ্ধের সময়েও বৈশালী নগরে যে রোগ, অমনুষ্য, ও দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তা করোনা ভাইরাস থেকেও কম নয়। বৈশালীতে যখন নানা রোগ,অমনুষ্য ভয়, ও দুর্ভিক্ষের কারনে বৈশালী নগর বাসী কোন কিছু উপায় না পেয়ে ভগবান বুদ্ধের শরণ নিয়েছিল ধর্মের শরণ নিয়েছিল সংঘের শরণ নিয়েছিল। রোগ, অমনুষ্য, ও দুর্ভিক্ষ হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভগবান বুদ্ধ রতন সূত্র পাঠ করেছিল , ভগবান বুদ্ধের প্রিয় সেবক আনন্দ সমস্ত বৈশালী নগরে রতন সূত্র পাঠ করে জল সিঞ্চন করেছিল। রতন সূত্রের প্রভাবে সমস্ত নগরবাসী রোগ,অমনুষ্য ও দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছিল। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি যতদিন পর্যন্ত থেরবাদ বৌদ্ধরা থাকবে শীলবান ভিক্ষু, শীলবান গৃহীরা থাকবে বুদ্ধের নীতি পালন করবে, সংঘ সূত্র শ্রবন করবে, রতন সূত্র শ্রবণ করবে ততদিন পর্যন্ত প্রকৃত বুদ্ধের অনুসরণ কারীকে কোন রোগ আক্রমন করতে পারবে না। আমাদের বুদ্ধের ধর্মকে আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি এবং মানি। জীবন চলে যাক তবুও আমরা প্রকৃত বুদ্ধের ধর্ম ত্যাগ করবো না।
বৌদ্ধরা করোনা ভাইরাসের ভয়ে বিহারে যাওয়া বন্ধ করে না। প্রকৃত বৌদ্ধরা করোনাকে ভয় করে না। সবার ধর্মজ্ঞান জাগ্রত হোক।

No comments