লুকিয়ে থাকা পাহাড়ি ফুল প্রগতি চাকমা
মা-বাবার তিন ছেলে মেয়ের সবার বড় প্রগতি চাকমা। ছোট ভাই বর্তমানে কলেজে এবং সবার ছোট বোন প্রাইমারী স্কুলে। আর প্রগতি চাকমা গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ডিগ্রী কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত। পিতা- শিব চরণ চাকমা, মাতা- চন্দ্র পদ্মা চাকমা, গ্রাম- চিনালছড়া, বাবুছড়া, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি।
ছোটকাল থেকে ছবি আকার প্রতি বেশী মনোযোগ ছিল। কিন্তু বাবার অভাবের সংসার হওয়াতে আর্টের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সেই সুযোগ ছিল না। তাই প্রায় সময় প্রগতি কাগজে কেরোসিনের ছাপ দিয়ে ছবি আকতো। আর কাগজও অনেক অপচয় হতো। এজন্য মায়ের কাছ থেকে অনেকবার প্রগতিকে মার খেতে হয়েছে। বাবা তাকে ২০০৮ সালে মিশন স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে লেখা পাড়ার চাপে তার আর্ট করা হয়নি। তারপরও তার মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা প্রতিভা মুছে যায় নি।
দীর্ঘ ৭ বছর পর ২০১৫ সালে তার প্রতিভার প্রতি মোহিত হয়ে সাধনাটিলার বনবিহারের বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রদ্ধেয় মহানাম ভান্তে তাকে সার্বিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে প্রগতি চাকমা তার স্বপ্নের আলো নতুন ভাবে ফিরে পায়। শুরু করে আবার আর্টের কাজ। বর্তমানে আরও এক ভান্তে মহান ধর্মগুরু শ্রদ্ধেয় বুদ্ধ বংশ ভান্তের অনুপ্রেরনায় মন্দিরের দেয়ালের আর্টের কাজ শেষের পথে।
ছোটকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যার কোন শিক্ষক ছিলনা এবং নিজের প্রতিভা দিয়ে আজ একজন আর্ট শিল্পী যা অকল্পনীয়। প্রগতির চাকমার প্রতিভা অভাবকে হার মানিয়েছে। বর্তমানে সামান্য উপার্জনে নিজের খরচ মেটানোসহ পরিবারের কিছুতা হলেও অভাব দুর হচ্ছে। সেই সাথে সমাজেও অনেক পরিচিতি পেয়েছে। তার ইচ্ছে আর্থিক সহযোগীতা পেলে সে সমাজে এবং দেশে অসহায় গরীব মেধাবীদের নিয়ে কাজ করে তার মতো প্রতিভাকে বিকশিত করার সহযোগীতা করবে।
তার কিছু আর্ট করা ছবি:





No comments