পবিত্র ধর্মীয় স্থানে পর্যটকদের এমন আচরন ধর্মীয় দৃষ্টিতে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, যা ধর্মকে অবমাননার শামিল।
কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের সাথে ট্যুরে গিয়েছিলাম সিলেটে। আমরা দুইজন বাদে বেশিরভাগই মুসলিম। জাফলং ঘুরে আসার পরে আমরা মাজারে গিয়েছিলাম। তো মাজারে উঠার আগে হাত মুখ ধুয়ে নিতে হয়। এটাতো স্বাভাবিক কোনো একটা পবিত্র স্থানে বা দেবী, আল্লাহর বা বুদ্ধ আসনের সামনে বসার আগে হাত মুখ ধুয়ে নিতে হয়। আমরা আমাদের মতন সালাম করলাম। কারণ, আমি বিশ্বাস করি তিনি ও একজন ভালো মানুষ ছিলেন, আদর্শবান ছিলেন, মানুষের শান্তি চেয়েছিলেন এ ভক্তি থেকেই আমি সালাম করেছি।
চট্টগ্রামে চাকরি করার সময় আমার এক কলিগ আমার ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলো। আমি তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে। ইসলাম ধর্মের কোনো বইয়ে লেখা নেই যে অন্য ধর্মকে কটাক্ষ করতে হবে, অন্য ধর্মকে গালি দিতে হবে। আমি আর সে অফিসে হাতে কাজ কম থাকলে অনেক সময় গান শুনতাম। যখন আযান দেই তখন গানটা অফ করে দিতাম। এটা হচ্ছে শ্রদ্ধা। আমাদের ধর্মে ও সন্ধ্যা বেলা,আর ভোর বেলায় এরকম মাইকে আমাদের ধর্মীয় ভান্তেরা সূত্র বলে। আর এ সময়টাতে আমরা গান শুনিনা, গান বাজাই না।
একই ভাবে দূর্গা পূজার সময় ও মা দূর্গাকে সালাম করে আসি। এটা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে। আপনি না চাইলে না ও করতে পারেন।। কিন্তু অন্য ধর্মকে অপমান করার অধিকার টা আপনাকে কে দিয়েছে???
আমি মনে করি - মানুষের প্রথম যে জিনিস টা আসে সেটা হচ্ছে অভ্যাস এরপর জ্ঞান।
কারণ, ছোটবেলাতে আমাকে যেটা শেখানো হয়েছে সেটাই আমি শিখেছি। মা বললে মা বলেছি, চাঁদ বললে চাঁদ বলেছি, ভগবান বললে ভগবান বলেছি, মন্দির বললে মন্দির বলেছি।
এর উল্টো টা ও হতে পারতো - আমাকে যদি ছোটবেলা থেকে আল্লাহ আর মসজিদের কথা বলতো সেটাই বলতাম, দেবীর কথা বললে দেবী বলতাম।
এরপর জ্ঞান -আমরা যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করি। বইয়ে পড়ি আমার ধর্মের বাইরে ও আরো ধর্ম আছে যেটা পারিবারে না শেখালে ও স্কুলে সে জ্ঞান ধারণাটা দেওয়া হয়। একে অপরের ধর্মকে শ্রদ্ধা করা, একে অপরকে সহযোগিতা করা, সামাজিক যে কর্তব্য, দায়িত্ব সেটা স্কুল কলেজেই শেখানো হয়। কবি চন্ডীদাসের সেই উক্তিটি- সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। একটা মানুষের সবসময় মনুষ্যত্ববোধটা জাগ্রত থাকতে হবে।
কিন্তু, আমরা কি সেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারছি?
মনুষ্যত্ববোধটা জাগ্রত রাখতে পারছি?
যদিই করে থাকি তাহলে নিজের ধর্ম বাদে অন্য ধর্মকে কটাক্ষ করি কেনো? অপমান করি কেনো?
মনে নেই-ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙা হামলা উসকে দিয়ে রামুর ঘটনা ঘটিয়েছেন।
কই আমরা তো কোনোদিন মসজিদ ভাঙিনি , মাজার বা আল্লাহ কে কটাক্ষ করে কিছুই করিনি বা বলিনি!!
আপনাদের গায়ে লাগলে ফসকা উঠে? আমাদের গায়ে লাগলে কি ঠান্ডা লাগে?
মনে রাখবেন -বেদনার জাত ধর্ম নেই।
উগ্রবাদ, মৌলবাদীরা চাই এদেশে একটাই জাতি থাকুক। একটাই ধর্ম থাকুক। তাই তারা ধর্মান্ধতা কে কাজে লাগিয়ে বার বার সাম্প্রদায়িক ঘটনার সৃষ্টি করতে চাই। তাই তারা পরিবারে, সমাজে, মসজিদে বেধর্মাবলম্বীদের নামে বিষ ছড়িয়ে দেয়। যে বিষ খেয়ে এরা বেশির ভাগই আক্রান্ত। তার ফলাফল চোখের সামনেই ।
কথায় আছে;
বন্যরা বনে সুন্দর,
শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ।
মুসলমানরা মক্কা শরীফে সুন্দর
বৌদ্ধরা সুন্দর বৌদ্ধ মন্দিরে...


No comments