আমার পাহাড়কে মুক্তি দিন- তপন চাকমা
পাহাড়ে আমার জন্ম।পাহাড় আমার
মাতৃভূমি।পাহাড়ের কোলে কোমলীয়
নিদ্রায় আমি বড় হয়েছি।পাহাড়ের
দিগন্তের ভাজে ভাজে আমি আমার
সূখ,শান্তি,অস্তিত্বকে খূঁজে পাই।
ভালোবাসি বদ্ধ ভালোবেসে ফেলেছি
আমি আমার প্রিয় পাহাড়কে।আমি গর্ব করে
বিশ্বায়নে দুয়ারে চিৎকার করে বুক ফুলিয়ে
বলতে পারি আমি পাহাড়ী,আমি
আদিবাসী।কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র আমাকে গর্ব
করে আমি পাহাড়ী,আমি আদিবাসী বলে
বলতে দেয় না।বলতে গেলে রাষ্ট্রযন্ত্র
বাড়িয়ে দেয় আমার উপর এবং আমার
পাহাড়ের উপর
নিপীড়ন,নির্যাতন,শোষণ,বঞ্চনার
তাপমাত্রা।রাষ্ট্রযন্ত্র পাহাড়কে কখনো
সেনা শাসন নামের দানবিয় দাবানলে
পুড়িয়ে মারে আবার কখনো ৭০-৮০ দশকে
পাহাড়ে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পাহাড়ী
আদিবাসীদের ভূমি বেদখল করে নতুন বসতি
স্থাপনকারী সেটেলার বাঙালী কতৃক
আদিবাসীদের নিজ ভূমিতে পরবাসী
বানিয়ে দেশান্তর করে। পাহাড় এবং
পাহাড়ের প্রকৃতির সাথে নিরবিচ্ছিন্ন
সংগ্রাম করে একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা
পাহাড়ী আদিবাসীদের স্বাতন্ত্র
স্বকীয়তা, আলাদা বৈশিষ্ট্য,ধর্ম,
বর্ণ,ভাষা,সাহিত্য,সংস্কৃতি ও কৃষ্টি থাকা
সত্বেও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ
নামক রাষ্ট্রের কাছে আদিবাসী
পাহাড়ীরা আদৌ সাংবিধানিকভাবে
অস্বীকৃত।যে কারণে স্বাধীন সার্বভৌম
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একটা অংশ
পার্বত্য চট্টগ্রামের কিংবা পাহাড়ের
আদিবাসীরা এখনো স্বাধীন
সার্বভৌমত্বের মৌলিক অধিকার থেকে
চরমভাবে বঞ্চিত।অপ্রিয় হলেও সত্য যে
এটা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক
রাষ্ট্রের জন্য একটা চরম লজ্জা এবং
ব্যার্থটা।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরে বঙ্গবন্ধু
রাঙ্গামাটি সফরে আসেন এবং সেখানে
একটি বিশাল জনসভা করেন।জনসভায়
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন জাতী-উপজাতী
(পাহাড়ী) নির্বিশেষে আমরা সবাই
বাঙালী!!!বিবেচ্য বিষয় যে বঙ্গবন্ধুর মত
মহান একটি মানুষ কিভাবে আরেকটি
জাতীর উপর এভাবে বিকৃত পরিচয় চাপিয়ে
দিতে পারে?পাহাড়ী আদিবাসীদের
সবক্ষেত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা থাকা সত্বেও
কেন তাঁরা বাঙালী পরিচয় দিবে?আমাদের
জাতীয়তা বাংলাদেশী হতে পারে কিন্তু
আমরা পাহাড়ী আদিবাসীরা বাঙালী নয়।
বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা,মাতৃভাষা
নয়।চাকমা,মারমা,ত্রিপুরা,তঞ্চঙ্গ্যা………
১৩ ভাষাভাষি ১৪ টি আদিবাসী
জাতিগোষ্ঠীর স্ব-স্ব ভাষায় হচ্ছে
আমাদের মাতৃভাষা।সুতরাং যে ভাষার জন্য
সালাম,রফিক,বরকত,জব্বারদের মত বীর
সেনারা জীবন দিয়ে বাংলা ভাষাকে
রক্ষা করেছিলো সে ভাষার মাটিতে কেন
আজ আদিবাসী জাতীসত্তাসমূহের ভাষা
হারিয়ে যাবে?কেন আদিবাসী
জাতিসত্বাসমূহের ভাষাকে অপমান করা
হবে?এই লজ্জা কার?ভাষাসৈনিকদের
মাটিতে আদিবাসী সহ অন্যান্য
জাতীগোষ্ঠীর ভাষাকে ক্রান্তিমূখী করা
এবং অসম্মান করা,অপমান করা মানেই কী
বীর সেনা রফিক,সালাম,বরকত,জব্বারদের
বাংলা ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ বৃথা নয়???
পরিশেষের কলমের কালিতে বলতে চাই-
ক্ষোভে,দুঃখে আমার পাহাড়কে অচিরেই
মুক্তি দেওয়া হোক।স্বাধীন সার্বভৌম
বাংলাদেশে আদিবাসীদের সাংবিধানিক
স্বীকৃতি দিয়ে বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ
মৌলিক অধিকার নিশ্চিৎ করা হোক আমার
পাহাড়ের একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা সহজ
সরল আদিবাসী মানুষদের।আমি মুক্তি চাই,
আমার পাহাড় মুক্তি চাই।স্বাধীন দেশ
বাংলাদেশ আমাকে আমার বাকস্বাধীনতা
ফিরিয়ে দিন।আমার পাহাড়ের
বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিন।যাতে আমরা
বড় গলায় দম নিয়ে গৌরবের সহিত বলতে
পারি স্বাধীন বাংলাদেশের
আদিবাসীরাও স্বাধীন,মুক্ত।যাতে করে
আমরা উচ্চ-স্বরে বলতে পারি, চিৎকার করে
গলা ফাটিয়ে ফেলতে পারি
মাশরাফি,মুশফিক,তামিম,সাকিব,সৌম্য,
সাব্বিরদের চার, ছক্কায় বাহঃবা দিতে
পারি।আনন্দে উৎপুল্লে বলতে পারি সাবাশ
বাঘের বাচ্চা
মাশরাফি,মুশফিক,তামিম,সাকিব…….।

No comments