বাংলাদেশ-কে বিলুপ্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা করা উচিত


#মোনোগীত জুম্ম
পার্বত্য চুক্তির বর্ষপুর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সাক্ষাৎকারসহ সরকারী ও বেসরকারী টেলিভিশনের পর্দায় পার্বত্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এবার আলোচনায় যোগ দিতে এসেছেন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে প্রাক্তন সামরিক প্রধান এম হারুন-অর-রসিদ (Ex. Army Chief Lt. Gen. M. Harunur Rasheed) এবং মেজর এমদাদুল ইসলাম (Maj. Emdadul Islam)। তাদের বক্তব্যও অন্যান্য দাম্বিক ও একগেঁয়েমি সামরিক অফিসারদের মতন অভিন্ন ছাড়া কিছুই নেই । তারাও ‘বাস্তবতা’, ‘সন্ত্রাস’, ‘চাঁদাবাজি’, ‘চার দলে বিভক্ত’, ‘PCJSS এককভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না’, ইত্যাদি কত আজেবাবাজে কথা বলে গেলেন!! যদি এসব উচ্চপদস্থ সামরিক অফিসারেরা কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দেন তাহলে বাকীদের বক্তব্য কিরুপ হবে???

বিশ্লেষণে আসা যাক, যেমনঃ-

১) ‘বাস্তবতা’ নামক কথাটি প্রসঙ্গেঃ - বাংলাদেশটির চারিদিকে পরিবেষ্টি হয়ে ভারত কর্তৃক ঢাকা এবং দেশটি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কাছে ঋণে জর্জরিত। যদি বর্তমান বাস্তবতার কারনে পার্বত্য চুক্তি (CHT Accord)-টি বাস্তবায়ণ করা সম্ভব না হয় তাহলে বাংলাদেশের বাস্তবাতার কারনে হয় ভারত-চীনের কাছে অঙ্গরাজ্য হওয়া নয় তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা পাকিস্তানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয় কি???

২) ‘সন্ত্রাস’ নামক কথাটি প্রসঙ্গেঃ- বিশ্বে ভোট চুরি ও জনগণের উপর সন্ত্রাস করার কারনে সন্ত্রাসী তালিকায় শেখ হাসিনার নামসহ RAB, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর অফিসারদের নাম রয়েছে । যেহেতু রাষ্ট্রের সরকার এবং সামরিক-আধাসামরিক বাহিনী ও পূলিশ সন্ত্রাসী সেহেতু দেশটিকে পরিচালনা করার জন্য ভারতের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয় কি ????

৩) ‘চাঁদাবাজি’ নামক কথাটি প্রসঙ্গেঃ- বাংলাদেশের সামরিক-আধাসামরিক বাহিনী, গোয়েন্ডা বাহিনী ও পুলিশরা কাস্টম অফিস, রাজস্ব অফিস, ভূমি অফিস, ইত্যাদি অফিস থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে । শুধু তাই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামেও সংস্কার (Reformist) এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ (UPDF-D) সদস্যদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামরিক-আধাসামরিক বাহিনী, গোয়েন্ডা বাহিনী ও পুলিশরা লক্ষ-কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে। যেহেতু চাঁদাবাজি করার কারনে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ণ করা সম্ভব নয় সেহেতু বাংলাদেশকেও বিলুপ্ত রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত নয় কি???   

৪) ‘চার দলে বিভক্ত’ প্রসঙ্গেঃ- বাংলাদেশটির স্বাধীনতার পর তারা শতাধিক দল-উপদলে বিভক্ত । যেহেতু চারটি দল হয়ে বিভক্তিটার কারনে পার্বত্য চুক্তি (CHT Accord) বাস্তবায়ণ করা সম্ভব নয় সেহেতু বাংলাদেশকেও বিলুপ্ত করা উচিত নয় কি ???

৫) ‘PCJSS এককভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না’ ---এ বক্তব্য প্রসঙ্গেঃ- যারা PCJSS এককভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না কথা বলছেন, তারা বলবেন কি বাংলাদেশের সামরিক-আধাসামরিক, গোয়েন্ডা ও পুলিশ বাহিনীর অফিসারেরা কার প্রতিনিধিত্ব করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করে ???

৬) বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ বাংলাদেশ স্বাধীনতা বিরোধী ছিল। শুধু তাই নয় চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশও । যদি কিছু অংশের লোকের পার্বত্য চুক্তি (CHT Accord)’র বিরোধীতার কারনে চুক্তিটি বাস্তবায়ণ না-করার অজুহাত দেখানো হয় তাহলে বাংলাদেশে স্বাধীনতাও পাকিস্তানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয় কি ???

বাংলাদেশটি জন্মলগ্ন থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতিতে ভরপুর এবং নানান দলে উপদলে ও কুন্ডলে বিভক্ত। তাছাড়া এযাবৎ কালে সুস্থ ভোটের দ্বারা কোন দলই ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করতে পারেনি । যদি তারা,  বাস্তবতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দলে দলে বিভক্ত ও PCJSS-এর প্রতিনিধিত্বকে রাষ্ট্রের সাথে একই চোখে দেখে তাহলে বাংলাদেশের মত স্বাধীন রাষ্ট্রের বিলুপ্ত হওয়া উচিত।

মূলতঃ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং দল  কিন্তু রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থাপনা নয়। সেজন্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং দলগত বিভক্তিকে পার্বত্য চুক্তি-এর সাথে একই সূত্রে গ্রথিত করে চুক্তিটি অবাস্তবায়িত রাখা যায় না । অর্থাৎ রাষ্ট্রের সাথে যেমন বাস্তবতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির সম্পর্ক নেই তেমনি পার্বত্য চুক্তি (CHT Accord) বাস্তবায়ণের সাথেও বাস্তবতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দলে দলে বিভক্তির সম্পর্ক থাকার কথা নয় ----- সরকার এবং সেনাবাহিনী আমলারা সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারলে পার্বত্য চুক্তি (CHT Accord)টি নিশ্চয়ই বাস্তবায়িত হবে।

No comments

Powered by Blogger.